লোড হচ্ছে...
চট্টগ্রাম 27 October, 2026 3 hours আগে

টুপটুপ রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে ১০ দিন পর মিলল আরেকটি কঙ্কাল

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 4 পাঠক

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একটি পুড়ে যাওয়া কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কঙ্কালটি উদ্ধার করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার হতে পারে। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এদিকে, ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত দুই পরিবারের ১০ সদস্যের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারের ছয়জন এবং অন্য পরিবারের চারজন রয়েছেন।

মরদেহ হস্তান্তর করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের নিহত সদস্যরা হলেন- মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তাঁর কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তাঁরা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে রওনা হন।

রিসোর্টে আগুন লাগার পর কর্তৃপক্ষ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১১ জনের নাম থাকায় একজনের পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে নতুন করে তল্লাশি শুরু করেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। বিকেল ৩টার দিকে তিনতলার একটি কক্ষের শৌচাগারের কাছে ছাইয়ের স্তূপের নিচে পুড়ে যাওয়া কঙ্কালটি পাওয়া যায়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকতের পাশে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন তিনতলা রিসোর্টটিতে গত ১৭ অক্টোবর সকালে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই সময় রিসোর্টের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার আটটি কক্ষে পর্যটকেরা অবস্থান করছিলেন। নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ ও কর্মীদের থাকার জায়গা।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছিল প্রশাসন। নতুন করে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার পরিণতি নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোর্শেদও আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তবে কমিটি এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

ট্যাগ:
thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.