লোড হচ্ছে...
শিক্ষা 29 September, 2026 4 weeks আগে

প্রাথমিকের শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেলেন সেই সুমাইয়া ও জাহিদ

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 11 পাঠক

গর্ভকালীন অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং নবজাতক সন্তানকে রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সুমাইয়া অবশেষে নিয়োগের তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

একই সঙ্গে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থী জাহিদ হাসানের নামও চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিয়োগের তালিকায় নিজেদের নাম দেখতে পান সুমাইয়া ও জাহিদ।

ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার পর চাকরি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা দুই প্রার্থীর নাম তালিকায় ওঠায় তাঁদের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।

এর আগে শনিবার ও রোববার সুমাইয়া ও জাহিদকে নিয়ে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সুমাইয়ার অভিযোগ ছিল, পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনে তাকে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। পরে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন তিনি।

মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমাইয়া সাফা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং পিরোজপুর মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

গর্ভকালীন সময়েও পড়াশোনা চালিয়ে যান সুমাইয়া। এমনকি নবজাতক সন্তানকে রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পর্বে অংশ নেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় তাঁর নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

তালিকায় নাম ওঠার পর সুমাইয়া বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক ভাইদের আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের লেখনী ও সহযোগিতায় আমার সমস্যাটি সবার নজরে এসেছে। আজ আমি আমার কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছি। এ আনন্দের মুহূর্তে আপনাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি আরও বলেন, ‘এখনো সারাদেশে প্রায় ৮০০ প্রার্থী বাদ রয়েছেন বলে শুনেছি। শুনেছি তাঁদেরও চাকরি হবে।’

অন্যদিকে মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থী জাহিদ হাসানের নামও চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে। মঠবাড়িয়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৮৩ জনের মধ্যে তাঁর মেধাক্রম ৫৪তম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটাতেও আবেদন করেছিলেন তিনি।

চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন জাহিদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরও অভিযোগ ছিল, পুলিশ ও এনএসআই ভেরিফিকেশনে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

জাহিদের বাবা আবু জাফর হাওলাদার কৃষক এবং মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান জাহিদ। সাপলেজা মডেল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ডক্টর রুস্তম আলী ফরাজী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান তিনি। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

নাম তালিকায় ওঠার অনুভূতি জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘যখন দেখলাম আমার রেজাল্ট এসেছে, তখন খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে আমার পরিবারের জন্য অনেক ভালো লাগছিল। কারণ, আমার পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েছিল। পিরোজপুরের ওয়েবসাইটে চাকরির খবরটি দেখে প্রথমে আব্বুকে ফোন করি। তখন তিনি আলহামদুলিল্লাহ পড়ছিলেন। পরে আম্মুকে ফোন দিলে তিনি কান্না করে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাচ্ছি মিডিয়াগুলোকে। তারা আমার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। যার কারণে খবরটি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গেছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সরকারকেও ধন্যবাদ জানাই, তারা পুনরায় আমার চাকরিটি ফিরিয়ে দিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে পিরোজপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক পদে ২৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে দুই ধাপে মোট ২৪২ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও ভেরিফিকেশনের কারণে তখন সুমাইয়া ও জাহিদ নিয়োগপত্র পাননি। শেষ পর্যন্ত তাঁদের নামও নিয়োগের তালিকায় স্থান পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দুই পরিবারে।

thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.