কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি পাইকারদের কাছে বিক্রি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বগুড়ায় প্রায় ১৯ বছর আগে গড়ে তোলা হয়েছিল চারটি গ্রোয়ার্স মার্কেট। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বাজারগুলোর মূল উদ্দেশ্য অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে।
অংশগ্রহণ ও নারী কর্নারের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।
ব্যবসায়ী মাসুদ রানা ও মহাজন আবদুল মান্নান জানান, নারী কর্নার থাকলেও তা কার্যকরভাবে চালু নেই। ফলে নারী কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে রাখা সুবিধাটিও কার্যত অব্যবহৃত থেকে গেছে।
শাহজাহানপুর উপজেলার দুবলাগাড়ী হাটের গ্রোয়ার্স মার্কেটেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সপ্তাহে মাত্র দুই দিন বাজারটি কিছুটা সচল থাকে। বাকি সময়ে বাজারের কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ে না।
বাজারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নারী কর্নার চালু হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া স্থানীয় সদস্য কৃষকদের বাইরে অন্য একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বাজারটি পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে কৃষকদের জন্য তৈরি করা বাজারের ব্যবস্থাপনা ও মূল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানে পাইকারি সবজির বাজারে তুলনামূলক কর্মচাঞ্চল্য থাকলেও কৃষকদের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বাজারে কেনাবেচা চললেও কৃষকেরা কতটা সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, খুচরা বাজারটি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। বাজার কমিটির কার্যক্রমও সীমিত। ফলে বাজারের অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম থাকলেও কৃষকদের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বগুড়ার সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. মোরশেদ আল মাহমুদ বলেন, ২০০৯ সালে প্রকল্পটি একটি এনজিওর সঙ্গে যুক্ত ছিল। কৃষকদের একটি গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে বাজার পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের মধ্য থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক সদস্যকে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজারগুলোতে কৃষিপণ্য গ্রেডিং এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এসব স্থাপনা সংস্কার করা হলে কৃষকেরা আরও সুবিধা পাবেন। বাজারের সদস্যরাই পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন।
বরাদ্দ না পাওয়া ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী আবেদন করেননি। এ কারণে তাঁরা বরাদ্দ পাননি। নিয়ম মেনেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নারী কৃষকদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি কিছু নীতিমালা পরিবর্তন করা হলে বাজারগুলো আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত গ্রোয়ার্স মার্কেটগুলো এখন সেই উদ্দেশ্য কতটা পূরণ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও দোকান ভাড়া দেওয়া, কোথাও বাজারের সীমিত কার্যক্রম, আবার কোথাও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। নারী কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সুবিধাও কার্যকর হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাজারগুলোর অবকাঠামো সংস্কার, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, কৃষকদের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং নারী কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সুবিধা চালু করা জরুরি। তা না হলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থায়নে গড়ে তোলা এসব বাজারের কাঙ্ক্ষিত সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে।
Leave a Reply