যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে জুলাইয়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সংকল্প ভাঙা যাবে না। বাংলাদেশ যখন সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের লাগামহীন অর্থনৈতিক লুণ্ঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন, দুর্নীতি, পদ্ধতিগত নিপীড়ন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে বিপর্যস্ত একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।
এতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাসীন থাকাকালে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস চর্চার অবসান ঘটানো হয়, যা তাঁদের দাবি অনুযায়ী, আগের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিয়মিত সংঘটিত হতো।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। তখন প্রত্যাশা ছিল, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, কিছু রাজনৈতিক দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে ধারাবাহিকভাবে বিদ্বেষমূলক প্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তাঁকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে।
তাঁদের মতে, এ ধরনের কাপুরুষোচিত কৌশলের উদ্দেশ্য হলো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।
বিবৃতিতে তাঁরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, ভয়ভীতি, মিথ্যা তথ্য, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি-কোনো কিছুই জুলাইয়ের প্রতিশ্রুত পরিবর্তনের পক্ষে তাঁদের অঙ্গীকার দুর্বল করতে পারবে না।
তাঁদের মতে, বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ এবং বিশেষ করে তরুণদের বিপুল ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কার ও মর্যাদার যে ম্যান্ডেট তৈরি হয়েছে, তা বিদ্যুৎগতির অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার অনুসারীদের প্রচেষ্টায় মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও ড. এম. ফয়জুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সিআর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, উবিনীগ এর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী ও ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
Leave a Reply