‘ক্ষমতায় বিএনপি, আর দুই-চারটা সাংবাদিক-পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের পেটাতে না পারলে ছাত্রদল হয়ে কী হলো?’ – এমন একটি হুমকির অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অডিও ক্লিপটির কন্ঠ জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আজমাইন হোসেন লাঞ্জু নামের এক ছাত্রদল কর্মীর বলে দাবি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৯টা দিকে আজমাইন হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা।
তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সহকারী পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইনবিরোধী কাজ করলে কেউ ছাড় পাবে না।’
গ্রেপ্তার আজমাইন হোসেন লাঞ্জু উপজেলার পূর্ব মালঞ্চ এলাকার সুজা মিয়ার ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের একজন কর্মী বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সম্প্রতি মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রদলের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে সাংবাদিক ও পুলিশকে পেটানোর হুমকি দেওয়া ২০ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে আজমাইন হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘রানিং ক্ষমতায় বিএনপি দুই-চারটা সাংবাদিক আর পুলিশ প্রশাসনকে যদি পেটাতে না পারি, ছাত্রদল হয়ে তাহলে কী হইল, কন।’
এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের আরেক নেতা জুয়েলের অনুমতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুয়েল ভাই যদি বলে, তাহলে সেই লেভেলের পিটন দেই সাংবাদিকদের। পরে এমপি সাবরে বইলা, এমপি সাবের লগে কথা বইলা দিমু চালান।’
এ ছাড়া, কয়েকজন নেতার কথোপকথনে সংবাদ সংগ্রহে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক গেলে দরজা বন্ধ করে মারধর এবং পরে সংসদ সদস্যকে জানিয়ে থানায় সোপর্দ করার কথা বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে অভিযান চালিয়ে আজমাইন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান শিপলু ফকির এনপিবি নিউজের প্রতিনিধিকে বলেন, আপনি কেন ফোন করেছেন, তা বুঝতে পেরেছি। ছেলেপেলেরা এসেছে, আমি তাদের নিয়ে বসে কথা বলব। পরে আপনাকে জানাব, ভাই।
Leave a Reply