লোড হচ্ছে...
খুলনা 26 October, 2026 1 day আগে

তেহরানে মক্কা জোটের শীর্ষ নেতারা, আলোচ্যসূচিতে যা থাকছে

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 2 পাঠক

মক্কা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা আজ সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। আঞ্চলিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই সূত্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানও এই বৈঠকে অংশ নেবেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার উপসচিব আলি বাঘেরি কানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করবেন। সেখানে তাঁরা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করবেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বৈঠক হতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের তিন দেশের জোটের সব সদস্যের সঙ্গে ইরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা সৌদি আরবের ওপর ক্রমেই বাড়তে থাকার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেন। সে সময় তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই সফরে ইরানি কর্মকর্তারা মুনিরকে জানিয়েছিলেন, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল, যা জুন মাসে কার্যকর হয়। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। এরপর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হয়।

এদিকে, হুতিদের সঙ্গে লড়াই অব্যাহত থাকার মধ্যেই রোববার আরও এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে সৌদি আরব।

চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি রাজধানী রিয়াদে মক্কা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠকে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়ে তাঁরা একমত হন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলার মধ্যে হুথিদের হামলা ক্রমেই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে বৃহত্তর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবও চাপের মুখে পড়েছে। গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে বাকি সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

রয়টার্সের হাতে আসা চুক্তির পাঠ্য অনুযায়ী, এর প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলোর ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি হুমকি দূর করতে দেশগুলো ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহার করবে। চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে গত সপ্তাহে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা এখনো চলছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান গত সপ্তাহেই চুক্তিটি অনুমোদন করেছে।

ট্যাগ:
thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.