‘১৭ বছরবে ধান ক্ষেতের মজলুম, মাত্র ৮ মাসেই জালিম’ বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান তানিম নিজের শহর চাঁদপুরে বাস থেকে নামার পরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করে। এরপর জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে। চার ঘণ্টা পর ফিরে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।’
তিনি অভিযোগ করে লেখেন, ‘উল্টো বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় ঢুকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়, ভিডিও বন্ধ করে দেয় এবং থানার ভেতরেই তাদের মারধর করে বের করে দেয়।’
মারধরের শিকার নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে নাসির লেখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির চাঁদপুর জেলার আহ্বায়ক মাহবুব, মেয়র পদপ্রার্থী নিয়াজ মোর্শেদসহ জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্র শক্তির নেতাকর্মীদেরও মারধর করা হয়।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের (এসপি) বক্তব্য তুলে ধরে তিনি লেখেন, পুলিশ সুপার বলেছেন, ‘আগে থানায় এনসিপির লোকজন এসেছে, এখন বিএনপির লোকজন এসেছে। থানায় তো সবাই আসতে পারে।’
পুলিশ সুপারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন রেখে লেখেন, থানা কি বিএনপির সন্ত্রাসীদের মারধর করার জায়গা? ওসি ও এসপির কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নেই। পুলিশের এমন ভূমিকা সন্ত্রাসীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। আমরা কি আওয়ামী লীগের জুলুমের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে আবার বিএনপির জুলুমের কারাগারে প্রবেশ করছি? থানার ভেতরেও যদি রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, পুলিশ যদি সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে এই রাষ্ট্রে মানুষ বিচার চাইবে কার কাছে বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি।
সবশেষে তিনি লেখেন, বিএনপির চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বকে এভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হলে আগামী দিনে শুধু বিরোধী দল নয়, সাধারণ মানুষও এই জুলুমের শিকার হবে। আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের জুলুম থেকে মুক্তি পেয়েছি বিএনপির নতুন জুলুম সহ্য করার জন্য নয়।
Leave a Reply