ঢাকার আশুলিয়ার একটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় এক নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রকাশিত কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মেশিনে কাজ করার সময় এক পুরুষ কর্মকর্তা ওই শ্রমিকের দিকে বারবার তেড়ে যাচ্ছেন এবং তার মেশিনে আঘাত করছেন। একপর্যায়ে ওই শ্রমিক মেশিনে বসা অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে কারখানার মেডিক্যাল সেন্টারে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ ছিল, অসুস্থবোধ করায় সুমি কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চেয়েছিলেন। তবে তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি।
ছুটি দিল না। এই বলে তিনি খাবার খেয়ে আবার কারখানায় চলে যান।
মিন্টু বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন সুমির বাসায় থাকার কথা। কিন্তু তাকে কারখানায় কাজ করতে হচ্ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বোঝা যাচ্ছে, অসুস্থ সুমি কারখানায় উৎপাদন ঠিকমতো করতে পারছিলেন না। তার ৫টায় কারখানা ছুটি হলেও তাকে ৫টা বাজার পরও কাজ করতে হচ্ছিল। মেশিনে কর্মরত অবস্থায় ৫টা ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে তার দিকে এক কর্মকর্তা তেড়ে আসেন। তার সঙ্গে দফায় দফায় খারাপ আচরণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। এর মধ্যেই তিনি মেশিনে বসা অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। পরে তিনি কারখানার মেডিকেল সেন্টারে মারা যান। মৃতদেহ নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের লাইন সুপারভাইজারকে অব্যাহতি দেওয়ার লক্ষ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
ডেকো গ্রুপের জিএম (অ্যাডমিন, এইচআর অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স) মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘ইতিমধ্যে ওই সুপারভাইজারকে শোকজ ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মিশুর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে তার সব পাওনা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মিশুর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, স্বামী-সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত ছিলেন মিশু। স্বামী কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই হয়তো চিন্তিত ছিলেন। শুনেছি মৃত্যুর ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মিশুর পরিবারকে যৌক্তিক সব বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে নারী ও শিশু হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মিশুর স্বামী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Leave a Reply