কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আকুবপুরে প্রেমিকার সাথে দ্বন্দ্বের জের ধরে মাসুদ মিয়া (৪২) নামের এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী প্রেমিককে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার আপন ভাগনে। এই ঘটনায় ঘাতক শিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মাসুদ মিয়া (৪০) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোড়েরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মাসুদ মিয়া ওই গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। অভিযুক্ত শিপন একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে পাশের একটি মুদি দোকানে গিয়েছিলেন মাসুদ। সেখান থেকে তাকে ডেকে নিয়ে যান শিপন। পরে দোকান থেকে কিছুটা দূরের একটি ফাঁকা জায়গায় তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। দুজনের ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যান শিপন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান মাসুদ।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাদের তিন সন্তানকে রেখে চলে যান। এরপর থেকে নিজের ভাঙাড়ির দোকানেই রাত কাটাতেন তিনি। এর প্রায় দুই বছর পর একই উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের শাহেদাগোপ গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মামা মাসুদের।
নিহতের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের অভিযোগ, ওই নারীর সঙ্গে মাসুদের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে ভাগিনা শিপন কৌশলে মামার মুঠোফোন থেকে তার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওই নারীকে নিজের করে পেতে শিপন প্রায় ১৫ দিন আগে মাসুদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগটি ছিল মিথ্যা। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এরপর থেকে শিপন বিভিন্নজনের কাছে ওই নারীকে পাওয়ার জন্য মামাকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
স্বজনদের ধারণা, ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিরোধ এবং আগের মারধরের জের ধরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিপনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে শনিবার রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন হত্যার ঘটনার অভিযুক্ত শিপনকে রাতেই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কুটি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply