লোড হচ্ছে...
চট্টগ্রাম 12 October, 2026 2 weeks আগে

পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা ভেঙে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 8 পাঠক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রমজান মিয়া নামে এক রেমিটেন্স যোদ্ধার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলা কায়েমপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রবাসীর ঘরে ঢুকে শিশুসহ সকলের হাত পা বেধে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ডাকাতি করে ১০ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে ডাকাত দল। এতে নিঃস্ব হয়ে গেছে প্রবাসীর পরিবার। এলাকায় ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। খবর পেয়ে প্রবাসীর বাড়িতে যান আইনশৃংখলা বাহিনীর লোকজন।

প্রবাসী রমজান মিয়ার স্ত্রী বিলকিছ বেগম জানায়, সোমবার ভোররাত আনুমানিক তিনটার দিকে দরজায় আঘাতের শব্দে ঘুম ভাংগে তাদের। জানতে চাইলে পরিচয় দেয় তারা পুলিশের লোক। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় অনেক লোকজন । তাদের হাতে দা, শাবল, কুড়াল, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র রয়েছে।

এসব দেখে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে ডাকাত দলের লোকজন হাত থাকা শাবল ঢুকিয়ে দিয়ে দরজার ছিটকিনি ভেংগে ঘরে প্রবেশ করে ৮/৯ জন ডাকাত। বাহিরে ছিলো আরও ১০/১২ জনের মতো। এরা ঘরে ঢুকেই তার শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে হাত-পা বেধে ফেলে। পরে তার রুমে গিয়ে তার চার বছর বয়সী শিশুর গলায় ছুরি ধরে ঘরে থাকা টাকা-স্বর্ণালংকারসহ যা যা আছে দিয়ে দিতে বলে ।

এসময় তার গায়ের ও শ্বাশুড়ির গায়ের গয়না, দামী মোবাইল ও নগদ ১ লক্ষ টাকা এবং সকল দামী দামী জিনিসপত্রসহ ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল হাতিয়ে নেয় ডাকাতরা। এ ঘরে ডাকাতি চলাকালে পাশের ঘরের লোকজন তখনো ঘুমে। এ ঘর থেকে বেরিয়ে পাশের তার চাচাশ্বশুড় প্রবাসী উসমান মিয়ার ঘরের দরজায় গিয়ে আঘাত করতে থাকে। এসময় এই উসমান মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম আর্তচিৎকার দেয়।

পাশের ঘরের প্রবাসী উসমান মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম জানায়, রাত তিনটার দিকে হঠাৎ দরজায় আঘাতের শব্দে ঘুম ভাংগে। এত রাতে কে বা কারা দরজায় আঘাত করছে ভয়ে আর্তচিৎকার দেই। আর্তচিৎকার দিলে ডাকাত দল বাহির থেকে হুমকি দেয় চেঁচামেচি করলে ঘরে ঢুকে বিচার করা হবে। এই ফাঁকে শাবল ঢুকিয়ে দিয়ে এই ঘরের দরজাও ভেংগে ফেলে । ঘরে ঢুকে ৭/৮ জন। বাহিরেও ছিলো ১০/১২ জন। ঘরে ঢুকেই তাকে ৬/৭টি থাপ্পর দেয়।

পরে তার ও তার মেয়ের গলার ও কানের স্বর্ণালংকারসহ ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, সকল দামী মোবাইল ও দামী দামী জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তার ঘরেরও প্রায় ৪/৫ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায় ডাকাত দল।

এ বিষয়ে জানতে কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন ডাকাতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোমবার ভোররাত আনুমানিক তিনটার দিকে আমার ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের প্রবাসী রমজান মিয়া ও তার চাচা উসমান মিয়ার ঘরে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় একাধিক সংঘবদ্ধ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। নতুন করে কার বাড়িতে আবার কখন ডাকাত দল হানা দেয় এ নিয়ে এলাকার মানুষ রয়েছে আতংকে।

এতগুলো ঘটনার পরও একজনকেও আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়নি কসবা থানা পুলিশ। এ সব ঘটনায় আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকান্ড নিয়ে মানুষের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। আগে মানুষ দরজা খুলে ঘুমালেও চুরি-ডাকাতি হতোনা। কয়েক বছর ধরে এসব চুরি ডাকাতির প্রবণতা বেড়েছে। ডাকাতি প্রতিরোধে স্থানীয় সাংসদ মুশফিকুর রহমানসহ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, ডাকাতির বিষয়ে আমরা কাজ করছি। সকালে ঘটনাস্থলে ডিবি টিম আসছিলো। ডিবি টিম এবং কসবা থানা পুলিশ মিলে একসাথে এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে। আশা করি দ্রুত এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।

কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ছামিউল ইসলাম বলেন, ডাকাতির বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। কসবা থানা অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাতের বেলায় যে সকল এলাকায় ডাকাতির প্রবণতা বেশী রয়েছে সেসব এলাকায় টহল বাড়ানো কথঅ বলা হয়েছে। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.