আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দলীয় প্রতীক না থাকায় একই এলাকায় একাধিক নেতার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে দলটির নীতিনির্ধারকেরা। এতে ভোট ভাগাভাগি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের আশঙ্কা এড়াতে আগেভাগেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক অবদান ও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে চায় দলটি।
সম্প্রতি গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রতিটি এলাকায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এসব আলোচনায় স্থানীয় সাংগঠনিক অবস্থান, সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির একাধিক নেতা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব সমস্যার সমাধান করবেন। দলে দ্বন্দ্ব ও বিভেদ দূর করে ঐক্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।
কমিটির সদস্যরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে বসে চারটি বিভাগের মহানগর, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে ‘জুম মিটিং’ করে নানা দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির প্রকৃত অবস্থানের খোঁজখবর নিয়েছেন। শিগগিরই বাকি বিভাগের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতাদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রার্থী বাছাই করে জেলার নেতাদের কাছে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বিরোধ কমিয়ে আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রচারণা চালাচ্ছেন। পোস্টার-ফেস্টুনের মধ্য দিয়ে প্রার্থীতার পূর্বাভাস দিচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বর্তমান সরকার অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। যোগ্য ও জনগণের ভোটে জয়ী হতে পারবেন, এমন গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অবাধে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবেন।
তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত অবস্থানে থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দলীয় পরিচয়ে পার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনি এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা ও স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রিয়তা বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী করা হবে বলে আমি মনে করছি। এছাড়া দল যাদেরকে প্রার্থী ঘোষণা করবে নেতাকর্মীরা তাদের পক্ষে কাজ করবেন।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এনপিবি নিউজকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একজন করেই প্রার্থী দেবে বিএনপি। যারা অতীতে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভুমিকা রেখেছে, দলের জন্য মামলা হামলার শিকার হয়েছেন, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তাদেরকেই মূল্যায়ন করা হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এনপিবি নিউজকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীক থাকছে না, তাই অনেই প্রর্থী হতে চাইবে। তাই আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপি কঠিন ভাবে করবে বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply