লোড হচ্ছে...
রাজনীতি 09 October, 2026 2 weeks আগে

হঠাৎ ‘বিয়ে হয়ে গেছে’ জানলেন বিধবা, অভিযোগের নেপথ্যে জামায়াত কর্মী

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 6 পাঠক

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কাগজে টিপসই নেওয়া হয়েছিল এক বিধবার। সঙ্গে নেওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি। কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন, কাগজপত্রে তার বিয়ে হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, তাকে দেখানো হয় বিয়ের একটি কাবিননামাও। তবে ওই নারী দাবি করেছেন, তিনি কাউকে বিয়ে করেননি এবং কোনো কাবিননামায়ও সই করেননি।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টিপসই নেওয়া স্থানীয় আবদুস ছাত্তারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার একটি কসমেটিকসের দোকান রয়েছে।

ভুক্তভোগী ৪৩ বছর বয়সী ওই বিধবার অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবদুস ছাত্তার তার কাছ থেকে একটি কাগজে টিপসই নেন। পরে জানতে পারেন, সেই টিপসই ব্যবহার করে তার নামে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কোথাও বিয়ে করতে যাইনি। কোনো কাজিকেও দেখিনি। ফ্যামিলি কার্ড করে দিতে আবদুস ছাত্তারকে তার কথামতো একটি কাগজে টিপসই দিয়েছি মাত্র।’

ওই নারী জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর মানুষের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন এবং তাদের বিয়ে দিয়েছেন। তার নাতি-নাতনিও রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস ছাত্তার। তার দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি ওই নারীর কাছ থেকে কোনো টিপসই নেননি। এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে ওই নারীর নামে যে কাবিননামা ছড়িয়েছে, তাতে বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এর আগে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কুদ্দুস। তবে ওই নারী কখনো তাতে রাজি হননি। কুদ্দুসের নিজের সংসারে স্ত্রী, সন্তান ও নাতি-নাতনি রয়েছে।

কুদ্দুসকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী তাকে আগে কিছু জানাননি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন বলে দাবি করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাদের কথা শোনেননি বলে জানান সুফিয়া।

কাবিননামায় কাজি হিসেবে গোলাম মোস্তফার নাম রয়েছে। সেখানে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে রয়েছে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম।

তবে সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ওই বিয়ের কোনো সাক্ষী হননি।

আর কাজি গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, তিনি ওই বিয়ে সম্পন্ন করেননি। তার দাবি, ছড়িয়ে পড়া কাবিননামাটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালেও একই ধরনের একটি জাল কাগজ তৈরি হওয়ায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবারও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তারের জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। তিনি (ছাত্তার) জামায়াতের পদধারী কোনো নেতা নন। তবে বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবদুস ছাত্তার আগে বিএনপি করতেন। তবুও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা চাই, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।’

ঘটনাটি নিয়ে গত সোম ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিশ বসেছে। তবে সালিশে আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। তাদের শুক্রবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবদুস ছাত্তার তার অবস্থান স্পষ্ট না করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিশে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ:
thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.