লোড হচ্ছে...
রংপুর 04 November, 2026 2 hours আগে

হাতে কাচের টুকরো রেখে সেলাই, চিকিৎসক বললেন ‘স্যরি’

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 4 পাঠক

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ও কাচের আঘাতে গুরুতর আহত সাইদার মিয়া নামের এক অসহায় ব্যক্তি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, এঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে রোগীকে চিকিৎসা নিতে বলেছেন হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া অত্যন্ত অসহায় ও ভূমিহীন। তিনি উপজেলার মজিদের পাড় এলাকায় অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি এক মাসের বেশিস সময় আগে দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (ইলেকট্রিক শক) হয়ে আহত হন এবং একই সময় ভাঙা কাঁচে সজোরে আঘাত পান। এতে তার বাম হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং একটি ধারালো কাচের টুকরো হাতের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা “হাসপাতালে শয্যা বা জায়গা খালি নেই” বলে অজুহাত দেখান। হাসপাতালে ভর্তি না নিয়ে ক্ষতস্থানে কেবল প্রাথমিক কিছু ব্যান্ডেজ ও সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে আসা সাইদার মিয়া প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাম হাতে কাচের টুকরো নিয়েই চরম যন্ত্রণা ও শারীরিক কষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন। পরবর্তীতে কোনো উপায় না পেয়ে এবং হাত নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে তাকে বিকল্প উপায়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং দীর্ঘ এক মাস পর তার হাতের ভেতর থেকে সেই কাচের টুকরোটি অপারেশন বের করা সম্ভব হয়।

ভুক্তভোগী সায়দার মিয়া জানান, বৈদ্যুতিক সক খেয়ে পরে গিয়ে ঘরের ভিতরে গ্লাসে আঘাত পায় পরে তাৎক্ষনিক ভাবে স্থানীয়রা তাকে চিলমারী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কোনো রকম চিকিৎসা দিয়ে হাতের ভিতর গ্লাস রেখেই ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সুস্থ না হলে এক মাসেরও বেশি সময় পর এক্সরে করে দেখা যায় ভিতরে দুটি কাঁচের টুকরো আছে। এরপর অপারেশন করে সেটি বের করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় নাকি মানুষ কে মেরে ফেলা হয়৷ এখানে কোনো রোগীকে ভালোভাবে চিকিৎসা দেয়া হয় না। তার দাবি, এমন সেবার দায় এই হাসপাতাল কে নিতে হবে।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম বলেন, সাইদার মিয়া মানুষটা অত্যন্ত গরিব ও অসহায়। সেদিন যখন তাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও কাঁচের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলো, তখন ডাক্তাররা যদি একটু মানবিক হতেন আর সঠিকভাবে ড্রেসিং বা এক্সরে করতেন, তবে তো তাকে এক মাস ধরে এমন অমানবিক কষ্ট সইতে হতো না। হাসপাতালের লোকজনের এমন দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও বিচার দাবি করছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো গরিব মানুষকে এমন অবহেলার শিকার হতে না হয়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, “ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য ‘স্যরি’ ভাই। রোগীকে বলেন চিকিৎসা করাতে। আমি এবিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি”।

ট্যাগ:
thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.