যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
এদিকে তার এ জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে মিশিগান কিংবা ঢাকায় আল-সাইয়েদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আশা করি, মিশিগান কিংবা ঢাকায় কোনো একদিন আমাদের দেখা হবে।’
বুধবার (০৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান সাদিক কায়েম।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবদুল ও ডেমোক্র্যাটদের কী দারুণ জয়!’ আল-সাইয়েদের সিনেটর হওয়ার রাজনৈতিক যাত্রা বেশ কিছুদিন ধরে অনুসরণ করছেন জানিয়ে সাদিক বলেন, পুরো যাত্রাটিই ছিল অবিশ্বাস্য রকমের চমকপ্রদ।
৯/১১-এর হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম হিসেবে পরিচিত হওয়া, কাজ করা এবং জনপরিসরে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা কঠিন হয়ে পড়ে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষকের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সাদিক।
ওই শিক্ষকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় বিমানবন্দরে নামার পর আপনার নামের সঙ্গে যদি মুহাম্মদ থাকে, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন ৯/১১ কী এবং ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ কী।’
আল-সাইয়েদ, ইলহান, জোহরান ও রাশিদার মতো ব্যক্তিদের পশ্চিমা বিশ্বের মুসলিম সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি প্রাচ্যের মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন ডাকসুর ভিপি। তিনি বলেন, বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের মধ্যেও ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত করে বৈশ্বিক নেতৃত্বে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন তারা।
আল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারের প্রশংসা করে সাদিক কায়েম বলেন, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আক্রমণের শিকার হলেও তিনি নীতিনির্ভর প্রচার চালিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘আর এটাই নতুন রাজনীতি—নীতির রাজনীতি। যে রাজনীতির চর্চা আমিও ব্যক্তিগতভাবে করতে চাই।’
পোস্টের শেষ দিকে আল-সাইয়েদকে অভিনন্দন জানিয়ে সাদিক লেখেন, ‘আশা করি, মিশিগান কিংবা ঢাকায় কোনো একদিন আমাদের দেখা হবে।’
Leave a Reply