লোড হচ্ছে...
জাতীয় 06 October, 2026 3 weeks আগে

সাড়ে ৪ কোটি টাকার আশ্রয়কেন্দ্রে নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ, ছাদ ঢালাইয়ে বাধা

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 7 পাঠক

জামালপুরের ইসলামপুরে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের দোতলার ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দনেরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে নির্মাণাধীন আশ্রয়কেন্দ্রটিতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কার্যাদেশ অনুযায়ী ছাদ ঢালাইয়ে লাল বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারের লোকজন নিম্নমানের চিকন সাদা বালু ব্যবহার করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা কাজে বাধা দেন।

এর আগে গত বুধবার কার্যাদেশের বাইরে গিয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদে রড বাঁধার অভিযোগ ওঠে। এ সময় এলাকাবাসীর বাধার মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন ঠিকাদারের লোকজন। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) নির্দেশে ছাদের রড খুলে কার্যাদেশ অনুযায়ী পুনরায় বাঁধা হয়। গত রোববার দুপুরে সামাজিক নিরাপত্তা অডিট অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল নির্মাণাধীন আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন।

গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, ছাদ ঢালাইয়ের জন্য নির্মাণস্থলে লাল বালুর পরিবর্তে সাদা বালুর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ তদারকিতে থাকা কর্মকর্তাদের নজর এড়াতে বালুর স্তূপের ওপর মোটা সাদা বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে নিম্নমানের চিকন সাদা বালু ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা কাজে বাধা দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারের লোকজন লাল বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের সাদা চিকন বালু দিয়ে ছাদ ঢালাইয়ের চেষ্টা করেছেন। এর আগেও ছাদে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফাঁক রেখে রড বাঁধা হয়েছিল। আমাদের বাধার মুখে তখন কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন তাঁরা। এর আগে পাইলের জন্য ৮০ ফুট লোহার খাঁচা বসানোর কথা থাকলেও ৫৪ ফুট খাঁচা বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা প্রতিবাদ করায় সেটিও করা সম্ভব হয়নি।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুর্গা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে নির্মাণকাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা রহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ঠিক নয়। তবে মোটা বালুর ঘাটতি থাকায় পরে মোটা বালু এনে ছাদ ঢালাইয়ে দেওয়া হয়েছে।’

নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘কার্যাদেশ অনুযায়ী লাল বালু ব্যবহারের কথা। কিন্তু লাল বালু না পাওয়ায় মোটা সাদা বালু ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। ঠিকাদারের লোকজন বালুর স্তূপের ওপর মোটা সাদা বালু দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা কাজে বাধা দিই। পরে উন্নতমানের বালু এনে কাজ করানো হয়েছে।’

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বন্যাপ্রবণ এবং নদীভাঙন এলাকায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দনেরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে তিনতলা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৯ টাকা। গত ৯ মার্চ নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের সোলাকিয়া এলাকার মেসার্স মুসফিকুর রহমান (কাঞ্চন) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। পরে তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুর্গা এন্টারপ্রাইজকে সাবকন্ট্রাক্টে কাজটি দিয়ে দেয়। আগামী ২০২৭ সালের ৩০ মে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারের লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয়রা। প্রায় তিন-চার মাস আগে শুরু হওয়া এ নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গত রোববার আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদের রড বাঁধায় অনিয়ম, পিআইওর নির্দেশে খুলে আবার বাঁধা হলো’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিনই ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্যাগ:
thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.