রাজধানীর পল্লবী থানার রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) শেখ বশির আহমেদ আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাসহ অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সাথে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন। এ ছাড়া কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) এ কে এম শফিউল হক/আজিজ আহমদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন।
আবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি তার ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট তৈরি ও পোস্ট দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়ন করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছেন। এ সংগঠনের মূল কাজ দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা, বিশৃঙ্খলা তৈরির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করা।
এ ছাড়া উক্ত আসামি বিভিন্নভাবে পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার চালিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও কুৎসামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁদের সাথে দেশি ও বিদেশি চক্রান্তকারীদের যোগাযোগ রয়েছে। মামলার স্বার্থে ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।
শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিউকিউটর (এপিপি) হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামির পক্ষে আইনজীবী জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর দিবাগত রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
Leave a Reply