লোড হচ্ছে...
বরিশাল 04 November, 2026 54 minutes আগে

দুর্নীতির অভিযোগে ভোলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ওএসডি

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 1 পাঠক

দুর্নীতির অভিযোগে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তৈয়বুর রহমানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে তাকে আগামীকাল ৫ নভেম্বরের মধ্যে বদলীকৃত কর্মস্থল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালীতে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে আগামী ৭ নভেম্বর থেকে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে তার বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অসদাচরণ, বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে রোগীদের পাঠানো, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা খাতের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং সাংবাদিকদের হয়রানিসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের যথাযথ সেবা না দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পাঠানো হতো। সেখানে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হতো। যেসব রোগীর আর্থিক সামর্থ্য কম ছিল, তাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হতো না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘদিন হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকত। অথচ এ খাতের বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করলে তাঁদের নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তা করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সাংবাদিক।

স্থানীয়দের দাবি, চাকরিজীবনের দীর্ঘ সময় ডা. তৈয়বুর রহমান ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মীর টিনু নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়কের পছন্দের বাইরে কোনো ঠিকাদার কিংবা হাসপাতালের কোনো স্টাফ ন্যায্যভাবে কাজ করতে পারতেন না। হাসপাতালের কাজকর্মে তার পছন্দ-অপছন্দই প্রাধান্য পেত বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে মীরাজুন নাহার মিনা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, তার ১১ বছর বয়সী এক ফুফাতো বোন পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়েই একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়। এর মধ্যে এক্স-রেও ছিল। পেটব্যথার রোগীকে বুকের এক্স-রে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসক তাঁকে বলেন, ‘ডাক্তার আপনি না আমি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. তৈয়বুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।

তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওএসডি ও বদলির আদেশের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ:
thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.