ভোলার সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, বৈষম্য ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে অযোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় বিতর্কিত নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে স্বচ্ছতার সঙ্গে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ভোলার স্থানীয় একটি পত্রিকা অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শিকার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাদমান শিকদার। তিনি ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের মো. হোসেন শিকদারের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাদমান শিকদার বলেন, ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা, ধনিয়া ও আলীনগর ইউনিয়ন এবং ভোলা পৌরসভা এলাকায় সার ডিলারশিপের জন্য তাঁরা আবেদন করেছিলেন। তবে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
তিনি বলেন, সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মধ্যে নিজস্ব গোডাউন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া গোডাউনের ক্ষেত্রে আয়তন বিবেচনায় তুলনামূলক বড় গোডাউনধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আবেদনকারীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে।
সাদমান শিকদারের অভিযোগ, এসব বিধান উপেক্ষা করেই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের নিজস্ব গোডাউন নেই, এমনকি কারও কারও ভাড়াটিয়া গোডাউনও নেই। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী গোডাউনের মালিকানা ও আয়তন বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা ছিল। তিনি আরও বলেন, সার ডিলার নিয়োগ
নীতিমালা-২০২৬-এর ৭ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারার (খ) ও (গ) অনুচ্ছেদে নিজস্ব গোডাউন থাকা এবং ভাড়াটিয়া গোডাউনধারীদের মধ্যে তুলনামূলক বড় গোডাউন থাকা আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এসব বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় তাঁরা ইতোমধ্যে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন উল্লেখ করে সাদমান শিকদার বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে নীতিমালা অনুসরণ করে প্রকৃত ও যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এতে কৃষকেরা সরকারি বিধি অনুযায়ী ন্যায্যভাবে সার সরবরাহ পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে পুনরায় যাচাই-বাছাই, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিতর্কিত ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত ও যোগ্য সার ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ প্রদান এবং কৃষকদের জন্য সুষ্ঠু ও নিয়মিত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত ব্যবসায়ী মো. নিজাম, সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply