বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেডের (বিপিটিএল) কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল লুট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ ১ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ১৬৫ টাকা আত্মসাতের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. মেরাজুল ইসলাম (৪৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলা মডেল টাউনে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের শাহবাগ আমলী অঞ্চলের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (সি.আর. মামলা নং-৪০৩/২০২৬) ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা) ও ৩৮০ (চুরি) ধারায়ও অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেডের অংশীদারিত্বে সৈয়দ এসহাক মো. আবুল খায়ের চেয়ারম্যান হিসেবে ৪৫ শতাংশ এবং বাদী সৈয়দ রিয়াজুল করিম ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে ৪৫ শতাংশের মালিক। অভিযুক্ত মো. মেরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির ১০ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার ছিলেন।
কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে দেশ-বিদেশে অবস্থান ও ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে মেরাজুল ইসলামের ওপর মৌখিকভাবে প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ ও দৈনন্দিন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি প্রতিষ্ঠানের মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনের নিয়মনীতি অনুসরণ না করে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সভা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে নিজের পছন্দমতো জনবল নিয়োগ এবং অর্থ ব্যয় করতে থাকেন।
মামলার বিবরণে অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ মালিকানা কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে মেরাজুল ইসলাম বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেন। এরপর কারখানার নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভারী যন্ত্রপাতি ও সাবস্টেশনের যন্ত্রাংশ একাধিক ট্রাকে করে রাতের আঁধারে চুরি করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনার জন্য রাখা কোম্পানির তহবিল থেকে ৭৫ লাখ ৯১ হাজার ৯১৫ টাকা এবং কারখানা থেকে ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়া কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির বাজারমূল্য ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৫০ টাকা। সব মিলিয়ে আত্মসাৎ ও চুরির পরিমাণ ১ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ১৬৫ টাকা বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ ও মালামাল লোপাটের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় রাজধানীর শাহবাগের ‘মুসলিম বিরিয়ানি’ রেস্তোরাঁয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একটি আপস-মীমাংসার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন ও মো. রফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে অর্থ ও মালামালের হিসাব উপস্থাপন করা হলে মেরাজুল ইসলাম তা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী এমডি শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে সিএমএম আদালতে নালিশি অভিযোগ দাখিল করা হলে আদালত তা আমলে নেন এবং ১৫ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের মাধ্যমে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, বসিলা মেইন রোড, মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে পিরোজপুরের পাড়েরহাটের বাসিন্দা মো. মেরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply