লোড হচ্ছে...
খেলাধুলা 05 November, 2026 2 hours আগে

আবুধাবি টি১০-এ অনিশ্চিত পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 4 পাঠক

আবুধাবি টি১০-এ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র দেওয়ার বিনিময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রতিটি অনাপত্তিপত্রের জন্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করেছে। শেষ মুহূর্তে এমন শর্ত দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বাড়তি অর্থ পরিশোধ করা অথবা বিকল্প খেলোয়াড় খোঁজার মধ্যে যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে হচ্ছে তাদের।

ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো জানিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করেছিল আবুধাবি টি-টেন কর্তৃপক্ষ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের মাত্র কয়েক দিন আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে পিসিবি ১০ হাজার ডলার করে দেওয়ার শর্ত জানায়।

খেলোয়াড় বাছাইয়ে ছয় দলের মধ্যে পাঁচটি দল পাকিস্তানের মোট ১৬ জন ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছে। ক্রিকইনফো জানতে পেরেছে, কোনো কোনো ক্রিকেটার নিজেদের দলমালিক বাড়তি ১০ হাজার ডলার দিতে রাজি না হলে ব্যক্তিগত পারিশ্রমিক থেকে সেই অর্থ পিসিবিকে দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। বিষয়টি সমাধানে মধ্যস্থতার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজতে শুরু করেছে দলগুলো।

গত মাসেও নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) অংশ নিতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র আটকে রেখেছিল পিসিবি। সে সময় প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য ২৫ হাজার ডলার দাবি করেছিল বোর্ড। হুসেইন তালাত ও জাহানদাদ খান এনপিএলে খেলা চালিয়ে গেলেও অধিকাংশ ক্রিকেটার মাঠে না নেমেই দেশে ফিরে আসেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করার বিষয়ে পিসিবির নীতিতে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি শুরুর সময় প্রথম এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তখন পিসিবির যুক্তি ছিল, যেসব লিগে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের চাহিদা বেশি, কিন্তু পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ওই দেশগুলোর ক্রিকেটারদের চাহিদা তুলনামূলক কম, সেসব লিগের ক্ষেত্রে এই অর্থ দাবি করা যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেটারদের কথা উল্লেখ করেছিল পিসিবি। বোর্ডের ধারণা, পিএসএলে এসব দেশের খেলোয়াড়দের চাহিদা ততটা নেই, যতটা তাদের দেশের লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের রয়েছে। পিসিবির এক কর্মকর্তার দাবি, এখনো এই যুক্তিতেই অর্থ দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বিদেশি লিগে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র দেওয়ার নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে পিসিবি। টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য নির্ধারিত ‘ট্র্যাক সি’ শ্রেণির খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বছরে টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন লিগে অংশগ্রহণের সংখ্যাগত সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে।

অন্যদিকে টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেট—দুই সংস্করণেই খেলা ‘ট্র্যাক এবি’ শ্রেণির ক্রিকেটাররা বছরে একটি বিদেশি লিগে অংশ নিতে পারবেন। একদিনের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টিতে বিশেষজ্ঞ ‘ট্র্যাক বিসি’ শ্রেণির খেলোয়াড়দের জন্য এই সংখ্যা দুটি। আর টেস্ট ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ ‘ট্র্যাক এ’ শ্রেণির ক্রিকেটারদের বিদেশের কোনো টি-টোয়েন্টি বা টি-টেন লিগে খেলার অনুমতি নেই।

এর আগে পিসিবির নীতি ছিল, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা সব ক্রিকেটার বছরে সর্বোচ্চ দুটি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে পারবেন। ‘পিএসএল প্লাস টু’ নামে পরিচিত ছিল সেই নীতি।

তবে কোন ক্রিকেটার কোন শ্রেণিতে পড়বেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেনি পিসিবি। ২০২৫-২৬ মৌসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে।

বিদেশি লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ এমনিতেই কমে আসছে। এর পেছনে পাকিস্তান ও ভারতের রাজনৈতিক বৈরিতাও বড় কারণ। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানাধীন অন্যান্য লিগের দলগুলোও সাধারণত পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দলে নেয় না।

এর উদাহরণ দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০। আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানাধীন দল নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার খেলেননি।

তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালিকানাধীন সানরাইজার্স লিডস এবারের গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত পুরুষদের হান্ড্রেড প্রতিযোগিতার জন্য আবরার আহমেদকে দলে নিয়েছিল। উসমান তারিক ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের একই মালিকানাধীন দল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন। এ ছাড়া এবারের ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টির জন্য আবুধাবি নাইট রাইডার্সও তাকে দলে নিয়েছে।

রাজনৈতিক বৈরিতার পাশাপাশি পিসিবির অনাপত্তিপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মিত ও অনিশ্চিত নীতিও বিদেশি লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন কয়েকজন খেলোয়াড়।

এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেয়নি পিসিবি।

আবুধাবি টি-টেনের খেলোয়াড় বাছাইয়ে দল পাওয়া পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা:

আরবিয়ান এইসেস: সালমান ইরশাদ।

এমিরেটস ঈগলস: আকিফ জাভেদ, হাসান নওয়াজ, আলী রাজা।

রয়্যাল ডেজার্ট চ্যাম্পিয়নস: নাসিম শাহ।

ইউএই বুলস: শাদাব খান, মোহাম্মদ আমির, খাজা নাফে, খুশদিল শাহ, আজম খান, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র।

ইউনাইটেড টাইগার্স: ফখর জামান, ইফতিখার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, সুফিয়ান মুকিম, আব্বাস আফ্রিদি।

ট্যাগ:
thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.