লোড হচ্ছে...
রাজধানী 05 November, 2026 2 hours আগে

রাজধানীতে জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট ও সফল নারী-উদ্যোক্তা সম্মাননা

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 4 পাঠক

রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) প্রাঙ্গণে জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট, পণ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা ম্যাচমেকিং এবং সফল নারী-উদ্যোক্তা সম্মাননার আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) নারী-উদ্যোক্তা সামিট উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। শিল্পসচিব এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদ সদস্য নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।

শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদ সদস্য মো. নূরুজ্জামান এনডিসি। সামিটের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাজিম হাসান সাত্তার।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, নারী-উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের সকল কর্মসূচি গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে সকল প্রচারণায় তথ্য মন্ত্রণালয় সহায়তা প্রদান করবে। তিনি আরো বলেন, নারী-উদ্যোক্তা একজন মা। তারা এগিয়ে গেলে দেশও এগিয়ে যাবে। শিল্পসচিব এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন আব্দুন নাসের খান বলেন, একজন নারী-উদ্যোক্তার সাফল্য অন্য নারীর জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে। তিনি আরো জানান, নারী-উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় ঋণ প্রাপ্তি এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করবে এসএমই ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ খাতে নারী-উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও অর্থায়ন, বাজারসংযোগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা, ব্র্যান্ডিং, মানসম্মত পণ্য উন্নয়ন, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এবং মানসিক সুস্থতাসহ (ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স) বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।

নারী-উদ্যোক্তাদের অর্জন, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট ২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে।

তিনদিনব্যাপী নারী-উদ্যোক্তা সামিটে পোশাক ও ফ্যাশন পণ্য, হস্তশিল্প ও কারুশিল্প, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, গৃহসজ্জা ও লাইফস্টাইল পণ্য, জুয়েলারি ও ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ, প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত যত্নের পণ্য, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, ডিজিটাল ও সৃজনশীল সেবা, বাহারি খাবার এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় প্রায় ৬০জন নারী-উদ্যোক্তার পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করবেন। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এছাড়া মেলায় সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, সুপারশপ ও রিটেইল চেইন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, ডিস্ট্রিবিউটর ও পাইকারি ক্রেতা, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড, রপ্তানিকারক এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের নারী-উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ, উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প, ব্যবসা শুরুর চ্যালেঞ্জ, অর্থায়ন, বাজার তৈরি, ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন ব্যবসা, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের মতো অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা আড্ডা ও সেমিনার, উদ্যোক্তা জীবনের চাপ, মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য, ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, আত্মবিশ্বাস এবং সহায়তা চাওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সেশন, নারী-উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরা পাশাপাশি বিশেষ অবদানের জন্য ৫জন নারী-উদ্যোক্তাকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০% শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরা’র ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯% কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫% সিএমএসএমই খাতে।

এই খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা এবং এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যাদের ৬০%-ই নারী-উদ্যোক্তা।

thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.