লোড হচ্ছে...
শিক্ষা 03 November, 2026 12 hours আগে

আপনি দায়িত্ব নিলে সমস্যা হবে: অধ্যাপককে জাবির আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের হুমকি

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 5 পাঠক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর।

তবে এ পদে যোগদান না করতে তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীমের বিরুদ্ধে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে ফোন করে বলেন, আপনি দায়িত্ব নিলে সমস্যা হবে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করবে। আপনি ইনস্টিটিউটের পদে বসবেন না।

এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) এক অফিস আদেশে অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের আগেই তাঁকে ফোন করে পদটিতে যোগদান না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এবিষয়ে অধ্যাপক মানছুর বলেন, আমি এখনো পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি। এর আগেই ঐ ইন্সটিটিউটের এক শিক্ষক আমাকে যোগাযোগ না করার জন্য থ্রেট দিয়েছেন। আমাকে বলা হয়, ‘যোগদান করলে সমস্যা হবে’।

তিনি আরও বলেন, আমার বক্তব্য হচ্ছে, কোনো শিক্ষকের কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা প্রশাসনকে জানানো উচিত। ওনি আমাকে সরাসরি ফোন করে কীভাবে? এই অধিকার তো ওই শিক্ষকের নেই। তিনি এ ঘটনাকে আমি হুমকি হিসেবে দেখছি এবং এটা আমার জন্য বিব্রতকর মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে উপাচার্যের কাছে নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে অধ্যাপক মানছুরের নিয়োগের প্রতিবাদে ইনস্টিটিউটের কিছু শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করেন অধ্যাপক কামরুল হক হামীম। এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে কথা বলেন তিনি। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলার সময় তিনি টেবিল থাবড়িয়ে উচ্চ শব্দে কথা বলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক কামরুল হক হামীম বলেন, নিয়মানুযায়ী আমি এই ইনস্টিটিউটের একজন সহযোগী অধ্যাপক। তাই এ বিষয়ে আমার মতামত বা সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় নেওয়ার কথা ছিল। অথচ আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। একজন ব্যক্তি গাড়ি চালাতে না জানলে তাঁকে গাড়ি চালাতে দিলে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, তেমনি অন্য বিভাগের একজন শিক্ষককে এনে এ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্ব দিলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তুলনামূলক সাহিত্য অত্যন্ত জটিল সাবজেক্ট।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম বলেন, একটু আগে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। একজন শিক্ষক হয়ে আরেকজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম পূর্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ এখনো সক্রিয় থেকে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে বাধা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করছে সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগ:
thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.