চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাওহীদা আক্তার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
জামিনের পক্ষে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মফিজুল ইসলাম আসলাম দাবি করেন, চার দফা তদন্তেও সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ডনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি বলেও দাবি করেন তারা। আইনজীবীর ভাষ্য, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গেলে সেখান থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পালিয়ে যাওয়ার মতো ব্যক্তি নন এবং ভবিষ্যতেও পালাবেন না। এসব যুক্তি তুলে ধরে তার জামিন প্রার্থনা করেন আইনজীবী।
এ ছাড়া জামিন আবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুর দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন, দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে আসামিপক্ষ দাবি করে, এসব প্রতিবেদনে আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকায় ডনের জামিন প্রাপ্য বলেও যুক্তি দেন তারা।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও তার জামিন আবেদন খারিজ হয়েছিল।
গত ৯ সেপ্টেম্বর পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ২৭ আগস্ট আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
রিমান্ড শেষে ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় তার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ডন অবগত ছিলেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মামলার ঘটনার আগে, পরে ও ঘটনার সময় তার আচরণ ও চলাফেরা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে আদালতকে জানায় সিআইডি। তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে তার স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।
Leave a Reply