লোড হচ্ছে...
খুলনা 01 November, 2026 8 hours আগে

খুলনায় কুপিয়ে হত্যা, দুই দিনের ব্যবধানে ফের খুন

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 3 পাঠক

খুলনা নগরীতে থামছে না হত্যাকাণ্ড। দুই দিনের ব্যবধানে আবারও প্রকাশ্যে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

গতকাল শনিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে নগরীর লবণচরা থানাধীন দরগা কাশেমিয়া জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম শহীদুল ইসলাম ওরফে কলিম (৩৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে দরগা কাশেমিয়া জামে মসজিদের পাশে কলিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি পুলিশের দুটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ততক্ষণে স্থানীয়রা কলিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন। পরে চিকিৎসকদের মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন।

ওসি জানান, নিহত কলিম পেশাদার মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। খুলনার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা সদর থানায় দায়ের করা সোহাগ হত্যা মামলায় তিনি এক নম্বর আসামি ছিলেন। এছাড়া সোনাডাঙ্গা, সদর ও লবণচরা থানাসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। নিহত কলিমের পিতার নাম মো. মাহাতাব উদ্দিন। 

পুলিশ জানায়, কলিমের বাড়ি পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকায়। তিনি পরিবার নিয়ে সোনাডাঙ্গা থানার পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাবা, মা ও ভাইবোনেরা লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভী দরগা রোড এলাকায় থাকেন। তিনি কখন এবং কী কারনে এই এলাকায় রাতে এসেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

নিহতের আরেক ভাই সোহাগের বিরুদ্ধেও সাতটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে এতগুলো মামলার আসামি কলিমকে কারা, কী কারণে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে নাকি? তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাদক কারবারের বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা কোনো বিষয়ই এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। সব বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

ওসি সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে,মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নগরীতে আবারও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মসজিদের পাশে একজনকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা সক্রিয়, অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে কতটা অগ্রগতি হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। 

এদিকে হত্যার কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নগরীতে ধারাবাহিক সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন নগরবাসী।

ট্যাগ:
thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.