লোড হচ্ছে...
সাস্থ্য 01 November, 2026 11 hours আগে

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

শেয়ার করুন: ফেসবুক টুইটার WhatsApp 5 পাঠক

হার্ট অ্যাটাক শুধু আগে থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরই হবে এমনটা বলা যায় না। আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা সবার জন্য জরুরি একটি বিষয়। কারণ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হার্টে রক্ত সরবরাহকারী কোনো ধমনি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। এ অবস্থাকেই হার্ট অ্যাটাক বলা হয়। ব্যক্তিভেদে এর উপসর্গ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কারও একাধিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে খুব কম উপসর্গও থাকতে পারে।

১. বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা

হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, চেপে ধরা বা ব্যথা। অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে এবং বুকের মধ্যে প্রচণ্ড অস্বস্তি তৈরি হয়।

তবে সব হার্ট অ্যাটাকে একই ধরনের বুকব্যথা নাও থাকতে পারে। তাই অস্বাভাবিক বা তীব্র বুকের অস্বস্তিকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

২. হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ব্যথা

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি এক বা দুই হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বুকের অস্বস্তির সঙ্গে এসব স্থানে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

৩. শ্বাসকষ্ট

হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া হার্ট অ্যাটাকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। কখনো বুকব্যথার সঙ্গে, আবার কখনো বুকব্যথা ছাড়াও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। হার্টের কার্যক্ষমতা কমে গেলে ফুসফুসে তরল জমার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট ও কাশি দেখা দিতে পারে।

৪. অস্বাভাবিক ঘাম

গরম, ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ অতিরিক্ত ঘাম, বিশেষ করে এর সঙ্গে বুকের অস্বস্তি, দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

৫. মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

হার্ট অ্যাটাকের সময় রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি হলে দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে বুকের ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে গেলে এটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি

বমি বমি ভাব বা বমি হলেই যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তা নয়। তবে বুকের ব্যথা, অস্বস্তি, ঘাম বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বমি বা বমি বমি ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কিছু ক্ষেত্রে নারীদের মধ্যে বুকের ব্যথার পাশাপাশি বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

৭. পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা বা অস্বস্তি

কখনো হার্ট অ্যাটাকের অস্বস্তি পেটের ওপরের অংশেও অনুভূত হতে পারে। ফলে অনেকে এটিকে গ্যাস বা বদহজমের সমস্যা মনে করে উপেক্ষা করেন। বিশেষ করে পেটের অস্বস্তির সঙ্গে বুকব্যথা, ঘাম, দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

৮. অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি

কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বল বা ক্লান্ত লাগাও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে অন্যান্য উপসর্গের পাশাপাশি অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি কিংবা ব্যথা হাত-ঘাড়-চোয়াল-পিঠে ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসর্গ কমে যাবে ভেবে অপেক্ষা করা বা নিজে থেকে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট সতর্কতামূলক লক্ষণ ছাড়াও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, যাকে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ বলা হয়। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা | American Heart Association (AHA) Warning Signs of a Heart Attack

thefourthbd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাল্টিমিডিয়া
দেখুন
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক
ভিডিও ১০ মি.